প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ

সোমবার, নভেম্বর ১৫, ২০২১

আমি মো. মকবুল হোসেন হাওলাদার , (সহ-সভাপতি, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ, চাকামইয়া ইউনিয়ন শাখা, কলাপাড়া, পটুয়াখালী) ‘কলাপাড়ার খবর’ অনলাইনভিত্তিক নিউজ গ্রুপে আজ (১৫/১১/২০২১ খ্রি.) সাংবাদিক জনাব ইমন আল আহসান কর্তৃক প্রকাশিত ‘কলাপাড়ায় হাইব্রিডদের দখলে আওয়ামী লীগের ঘর’ শীর্ষক মিথ্যা, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও ফরমায়েসী সংবাদের তীব্র প্রতিবাদ জানাই। বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন কর্তৃক চতুর্থ ধাপের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পূর্ব থেকেই একটি মহল আমার বিরুদ্ধে নানা অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছে। গত ১৪ নভেম্বর, ২০২১ খ্রিষ্টাব্দে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ, কলাপাড়া উপজেলা কার্যালয়ে উপজেলা ও জেলা নেতৃবৃন্দের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত কাউন্সিলে ১ নং চাকামইয়া ইউনিয়নের ছয়জন প্রার্থীর মাঝে আমি ২৭ ভোট পেয়ে প্রথম স্থান অধিকার করি। আমার সাফল্যে ঈর্ষান্বিত হয়ে কাউন্সিল ভোটে দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা চাকামইয়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান জনাব মো. হুমায়ুন কবির কেরামত হাওলাদার (২১ ভোট) উল্লিখিত মিথ্যা, বানোয়াট ও উদ্দেশ্য প্রণোদিত সংবাদটি প্রকাশে মূখ্য ভূমিকা পালন করেছেন বলে আমার ধারণা। তাঁর এই ধরনের দায়িত্বহীন কর্মকাণ্ডে শুধু তৃণমূল কাউন্সিলরদের মতামতের প্রতিই অবজ্ঞা প্রদর্শন করা হয়নি; বরং আমার প্রাণের সংগঠন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের নেতৃবৃন্দের আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনসংক্রান্ত নির্দেশনা অমান্য করা হয়েছে বলে আমি মনে করি। জনাব মো. হুমায়ুন কবির কেরামত হাওলাদার ২০১৪ সালের উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ কর্তৃত মনোনীত প্রার্থী, উপজেলা আওয়ামী লীগের বর্তমান সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মোতালেব তালুকদারের সরাসরি বিপক্ষে অবস্থান নিয়ে তারই (জনাব মো. হুমায়ুন কবির কেরামত হাওলাদার-এর) নিকট আত্মীয় জনাব মো. আখতারুজ্জামান কোক্কা মীরার পক্ষে সরাসরি প্রচারপ্রচারণা চালান। পুনরায় ২০১৯ সালের উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান, উপজেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা এস এম রাকিবুল আহসানের নৌকা প্রতীকের বিপক্ষে অবস্থান নিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী জনাব মো. আখতারুজ্জামান কোক্কার পক্ষে প্রচার-প্রচারণা চালান। তার এই অবিবেচনাপ্রসূত কর্মকাণ্ডে উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দের সুপারিশে গত ১৯/৩/২০১৯ খ্রি. তারিখ শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে জেলা আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ জনাব মো. হুমায়ুন কবির কেরামত হাওলাদারকে দল থেকে বহিষ্কার করেন এবং মাইকিং করে বহিষ্কার আদেশ পৌর শহরে প্রচার করেন। ২০১৯ সালের ৭ আগস্ট পূর্ব চাকামইয়া গ্রামে তার বিরুদ্ধে ভিজিএফ-এর চাল আত্মসাতের অভিযোগ উঠে। তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. মুনিবুর রহমান এর নেতৃত্বে সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তা ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করেন। অভিযুক্ত চেয়ারম্যান জনাব মো. হুমায়ুন কবির কেরামত হাওলাদারের ঘনিষ্ট পূর্ব চাকামইয়া গ্রামের জনাব জালাল চাকরের বাড়ির পুকুরে ফেলে দেয়া চালের বস্তা উদ্ধার করা হয় এবং অভিযুক্ত জনাব মো. হুমায়ুন কবির কেরামত হাওলাদার ও জনাব জালাল চাকরের শ্যালক জনাব জামাল হোসেনকে গ্রেফতার হন। কয়েক মাস কারাভোগের পর তারা জামিনে মুক্ত হন। সেই মামলায় ২০১৯ সালের ২০ জানুয়ারি স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব জনাব মো. আবু জাফর রিপন সাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে অভিযুক্ত জনাব মো. হুমায়ুন কবির কেরামত হাওলাদারকে চেয়ারম্যান পদ থেকে সাময়িক বরখাস্ত করেন। উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে পরপর দুইবার নৌকা মার্কার প্রার্থীর সরাসরি বিরোধিতা করার কারণে তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়। বহিষ্কার আদেশের কারণে তিনি গত ১৩ নভেম্বর পর্যন্ত তৃণমূল কাউন্সিল ভোটের প্রার্থী হওয়ার জন্য ফরম সংগ্রহ করতে পারেননি। ১৪ নভেম্বর সকালে উপজেলা ও জেলা নেতৃবৃন্দের সিদ্ধান্ত মোতাবেক বিশেষ বিবেচনায় তাকে কাউন্সিল ভোটে অংশগ্রহণের জন্য ফরম দেয়া হয়। উল্লেখ্য তিনি উক্ত কাউন্সিল ভোটে অংশ নিয়ে ২২ ভোট পেয়ে দ্বিতীয় হন।
আমি বিগত এক যুগেরও অধিক সময় বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ১নং চাকামইয়া ইউনিয়ন শাখা কমিটির আইন সম্পাদক ও সর্বশেষ ২০১৩ সালে ঘোষিত কমিটির সহ-সভাপতি হিসেবে সততা ও নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করেছি। বিগত সংসদ নির্বাচনসহ অনেকগুলো স্থানীয় নির্বাচনে আমি নৌকা মার্কার প্রার্থীর পক্ষে একজন একনিষ্ঠ কর্মী হিসেবে নিঃস্বার্থভাবে কাজ করেছি। মহামারি করোনা ভাইরাসের মাঝেও আমি ইউনিয়নের মানুষের সুখদুঃখে পাশে থাকার চেষ্টা করেছি। ফলে ইউনিয়নের তৃণমূল আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সাথে আমার নিবিড় সম্পর্ক তৈরী হয়। গত ১৫ নভেম্বর, ২০২১ খ্রিষ্টাব্দ তারিখের কাউন্সিল নির্বাচনে তৃণমূল ভোটে আমার প্রথম স্থান লাভ করার পিছনে রয়েছে তৃণমূলের অসংখ্য নেতাকর্মীর অকুণ্ঠ সমর্থন। তৃণমূলই আমার আস্থা ও বিশ্বাসের প্রতীক। তাই আগামী চতুর্থ ধাপের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে সকল মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচারে উপজ়েলা ও জ়েলা আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দসহ কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ বিভ্রান্ত হবেন না বলে আমার বিশ্বাস।
সর্বোপরি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের একজন কর্মী হিসেবে হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপনের সোনার বাংলা এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার রূপকল্প – ৪১ বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে চাকামইয়াকে একটি আধুনিক মডেল ইউনিয়ন হিসেবে গড়ে তোলার জন্য সকলের সহযোগিতায় আমি নৌকা প্রতীকের প্রার্থী হতে চাই।
জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু।
বাংলাদেশ চিরজীবী হোক।