১০ মাসে বরিশালের সড়ক-মহাসড়কে ২৯৯ প্রাণহানি

বুধবার, নভেম্বর ১০, ২০২১

দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলায় প্রতিদিনই কোনো না কোনোস্থানে সড়ক দুর্ঘটনায় ঝড়ছে তাজা প্রাণ। আহতদের মধ্যে চিরদিনের জন্য পঙ্গু হয়েছেন অসংখ্য মানুষ।

২০২০ সাল থেকে চলতি বছরের অক্টোবর মাস পর্যন্ত দশ মাসে বরিশাল বিভাগে মোট ২৮৮টি সড়ক দুর্ঘটনায় শিশুসহ ২৯৯ জন নিহত হয়েছেন। এ দুর্ঘটনায় আরও ৫২০ জন মানুষ আহত হয়েছেন।

নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা) এবং বরিশাল বিআরটিএ’র বিভাগে সড়ক দুর্ঘটনায় হতাহতদের এক পরিসংখ্যানে এসব তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

পরিসংখ্যানে জানা গেছে, বিভাগের মধ্যে সবচেয়ে বেশি সড়ক দুর্ঘটনা ও প্রাণহানির ঘটনায় ঘটেছে বরিশাল জেলায়। এ জেলায় ১০৪টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৯৩ জন নিহত ও ২৩৮ জন আহত হয়েছেন।

এর মধ্যে গত বছরে সবচেয়ে আলোচিত ও মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে ৯ সেপ্টেম্বর বিকেলে। ওইদিন ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের উজিরপুর উপজেলার আঁটিপাড়া এলাকায় মৃত নবজাতকের মরদেহ নিয়ে বাড়ি ফেরার পথে কাভার্ডভ্যান, এ্যাম্বুলেন্স ও যাত্রীবাহী বাসের ত্রিমুখী সংঘর্ষে নবজাতকের বাবাসহ একই পরিবারের পাঁচ সদস্য এবং এ্যাম্বুলেন্স চালকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে।

এছাড়া ঝালকাঠিতে ২০টি সড়ক দুর্ঘটনায় ১৮ জন নিহত ও ৬০ জন আহত হয়েছেন। পিরোজপুরে ২০টি সড়ক দুর্ঘটনায় ২২ জন নিহত ও নয়জন আহত, পটুয়াখালীতে ৪২টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৪৩ জন নিহত ও ৪৬ জন আহত, বরগুনায় ১৯টি সড়ক দুর্ঘটনায় ২২ জন নিহত ও ৩১ জন আহত, ভোলায় ৩৯টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৪৫ জন নিহত ও ৭৩ জন আহত হয়েছেন।

বিআরটিএ’র দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা বলেন, সড়ক দুর্ঘটনারোধে পেশাদার চালকদের ড্রাইভিং লাইসেন্স নবায়নের ক্ষেত্রে প্রশিক্ষণ, সড়ক দুর্ঘটনারোধে গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে জনসচেতনতামূলক পোস্টার সাটানোসহ বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।

দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে দেখা গেছে, সরকারী নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে মহাসড়কে অবৈধ থ্রী-হুইলার, ইজিবাইক ও অযান্ত্রিক যানবাহন চলাচলের কারণে প্রতিদিনই দুর্ঘটনা লেগেই রয়েছে।

যদিও সড়কে দুর্ঘটনা কমিয়ে আনার জন্য ২০১৫ সালে দেশের ২২টি মহাসড়কে ওইসব যানবাহন চলাচল নিষিদ্ধ করে প্রজ্ঞাপন জারি করে সরকার। তবে ওই নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে ধীরগতি, অদক্ষ চালক, রাজনৈতিক সদিচ্ছার অভাবে সড়কে তাজা প্রাণ ঝড়ারোধ করা যাচ্ছে না।

সড়ক দুর্ঘটনার কারণ হিসেবে মানুষের সচেতনার অভাবকে দায়ী করে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজ বিজ্ঞান বিভাগের সহকারি অধ্যাপক ড. তারেক মাহামুদ আবির বলেন, সড়ক আইন যেমনি মানা হচ্ছে না, তেমনি সড়কে চলাচলে ডিভাইস সঠিকভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে না। দক্ষ চালক নেই বললেই চলে। সড়ক দুর্ঘটনাগুলো দক্ষ চালক না থাকার কারনেই বেশি হচ্ছে।

বরিশাল জেলা পুলিশ সুপার মোঃ মারুফ হোসেন পিপিএম বলেন, সড়কে থ্রী-হুইলার চলাচল বন্ধে পুলিশের পক্ষ থেকে নিয়মিত অভিযান চালানো হচ্ছে। সড়ক দুর্ঘটনা এড়াতে নিয়মিত উঠান বৈঠক, সচেতনতামূলক প্রচারণা চলমান রয়েছে।

বরিশাল বিআরটিএ’র বিভাগীয় উপ-পরিচালক (ইঞ্জিন) মোঃ জিয়াউর রহমান সড়ক দুর্ঘটনারোধে তার দফতরের নানা উদ্যোগের কথা জানিয়েছেন। যা বাস্তবায়নের জন্য প্রতিনিয়ত বরিশালের গুরুত্বপূর্ণস্থানে জনসাধারণ এবং গাড়ির চালক, সুপারভাইজার ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সচেতনতামূলক পথসভার পাশাপাশি লিফলেট বিতরণ করা হচ্ছে।