খুলতে পারে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, জানালেন শিক্ষামন্ত্রী

সোমবার, আগস্ট ১৬, ২০২১

শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি বলেছেন, করোনা টিকা কার্যক্রম শুরু হওয়ায় শনাক্ত হার ৫ শতাংশে না নামলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়া হতে পারে। গতবছরের মত এ বছরের নভেম্বর-ডিসেম্বর মাসে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ কমলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়া সম্ভব হবে। মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো ধাপে ধাপে খোলার পরিকল্পনা সরকারের আছে।

রোববার (১৫ আগস্ট) রাজধানীর সেগুনবাগিচায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে জাতীয় শোক দিবসের অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, আমরা সবাই যদি স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলি তাহলে সংক্রমণের হার কমে আসবে। বিশেষজ্ঞরা বলেন, শতকরা ৫ ভাগ বা তার কম সংক্রমণ হলে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়া যায়। সেটা যেমন আমরা মাথায় রাখছি। একই সাথে টিকাদান কার্যক্রম ব্যাপকভাবে শুরু হয়েছে। যদি আমরা আমাদের শিক্ষার্থীদেরকে টিকার আওতায় নিয়ে আসতে পারি সেক্ষেত্রে সংক্রমণ শতকরা ৫ ভাগ এ না নামলেও একটা যথেষ্ট পরিমাণে নামলেই হয়তো আমরা শিক্ষার্থীদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়ে আসতে পারবো। শিক্ষক কর্মচারী ও বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক শিক্ষার্থীদের টিকা দেওয়ার কাজ প্রায় শেষ হয়ে গিয়েছে বলেও জানান শিক্ষামন্ত্রী

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার বিষয়টি নির্ভর করছে সংক্রমণ ও টিকা দেওয়ার অবস্থাটা কোন পর্যায়ে হয় সেটির ওপর। আমরা আমাদের শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের স্বাস্থ্যঝুঁকির বিষয়টি অবশ্যই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়ে সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি। সকল পর্যায়ের সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়ার সার্বিক প্রস্তুতি আমাদের আছে এখন পুরোপুরি নির্ভর করে করোনার পরিস্থিতির ওপর।

ডা. দীপু মনি বলেন, আমাদের গত বছরের অভিজ্ঞতা বলে নভেম্বর-ডিসেম্বর মাসে সংক্রমণ অনেক কমে গিয়েছিল। যদি এ বছরও একই রকম অবস্থা হয় আমরা এসএসসি-এইচএসসি পরীক্ষা নিতে পারব ইনশাআল্লাহ। সেরকম চিন্তা করেই আমরা পরীক্ষার সময়সূচি নির্ধারণ করেছি। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো সেক্ষেত্রে খুলে দেওয়ার আমাদের পক্ষে সম্ভব হবে ইনশাআল্লাহ। কিন্তু এ সব কিছুই নির্ভর করছে করোনা পরিস্থিতির ওপর।

মন্ত্রী আরও বলেন, যদি সংক্রমণের হার একেবারেই কমে যায় চলে আসে সে ক্ষেত্রে হয়তো সকল ধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে একসাথে খুলে দেওয়া যেতে পারে। যদি সংক্রমণ ধীরে ধীরে কমে সে ক্ষেত্রে হয়তো বিশ্ববিদ্যালয়ের খুলে দেওয়া হতে পারে যেহেতু বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা টিকা পেয়েছেন। সবই নির্ভর করছে সংক্রমণের গতিপ্রকৃতি ওপর।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর ধাপে ধাপে খোলার পরিকল্পনা আছে। আমরা যে একবার শিক্ষার্থীদের ৫দিন বা ৬ দিনের জন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নিয়ে আসবো তা কিন্তু নয়। আমরা ধাপে ধাপে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার চেষ্টা করব। সেভাবেই পরিকল্পনা করা হয়েছে।

তিনি বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীও ঘোষণা দিয়েছেন আমাদের শিক্ষার্থীদের বিশেষ করে ১৮ বছরের ঊর্ধ্বে যারা আছেন তাদের সকলকে যাতে আমরা টিকার আওতায় নিয়ে আসতে পারি। শিক্ষক কর্মচারীদের টিকা দেয়ার কাজ প্রায় সম্পন্ন করে ফেলেছি আমরা। আবাসিক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী যারা তাদের অধিকাংশকেও টিকা দেয়া সম্পন্ন করা হয়েছে। কাজেই বাকি শিক্ষার্থীদেরও যদি আমরা টিকার আওতায় নিয়ে আসতে পারি, সেক্ষেত্রে সংক্রমণের হার শতকরা ৫-এ না নামুক, একটা যথেষ্ট পরিমাণে নামলেই আমরা একটা সিদ্ধান্ত নেব।