দক্ষিণ এশিয়ায় কোভিড১৯ সংক্রমিতের সংখ্যা তিন কোটি ছাড়িয়েছে।

শুক্রবার, মে ২৮, ২০২১

কোভিড-১৯ মহামারীর দ্বিতীয় ঢেউয়ে বিপর্যস্ত ভারত এই সংখ্যা বৃদ্ধিতে বড় অবদান রাখছে এবং পুরো অঞ্চল জুড়েই টিকার ঘাটতি রয়েছে বলে জানিয়েছে রয়টার্স।

শুক্রবার পর্যন্ত ভারতে প্রায় দুই কোটি ৭০ লাখ মানুষ করোনাভাইরাসে সংক্রমিত হয়েছে এবং মারা গেছে তিন লাখ ১৮ হাজার ৮৯৫ জন।

গত বছর মহামারী শুরুর পর বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম জনসংখ্যার দেশে এ মাসেই করোনাভাইরাসে সবচেয়ে বেশি মৃত্যুর রেকর্ড হয়েছে, যা দেশটিতে মোট মৃত্যুর এক তৃতীয়াংশ।

দক্ষিণ এশিয়ায় ভারত, বাংলাদেশ, পাকিস্তান, নেপাল, শ্রীলঙ্কা, মালদ্বীপ ও ভুটানে সংক্রমণ ও মৃত্যুর হার বিশ্বে যথাক্রমে ১৮ শতাংশ ও ১০ শতাংশ।

যদিও সংক্রমণ ও মৃত্যুর সরকারি পরিসংখ্যান নিয়ে সংশয় বাড়ছে এবং ধারণা করা হচ্ছে, সত্যিকারের সংকটের চিত্রটি আরও ভয়াবহ।

সরকারি হিসাব অনুযায়ী, গত কয়েকদিনে সংক্রমণের সংখ্যা কিছুটা কমায় আশা করা হচ্ছে ভারত দ্বিতীয় ঢেউয়ের চূড়া থেকে নামতে শুরু করেছে। তবে এ নিয়ে সংশয়ও রয়েছে। কারণ অভিযোগ আছে, দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে সরঞ্জামের ঘাটতি থাকায় নতুন সংক্রমণ শনাক্ত হচ্ছে না।

এই মাস থেকে ভারতে ১৮ বছর বা তার চেয়ে বেশি বয়সের সবার জন্য টিকাদান কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। কিন্তু বিশ্বের সবচেয়ে বড় টিকা উৎপাদনকারী দেশ হওয়ার পরেও এই মুহূর্তে এই বিপুল জনগোষ্ঠীর চাহিদা পূরণের ধারেকাছেও নেই তারা।

ভারতে জনগণকে সেরাম ইনস্টিটিউট অব ইন্ডিয়ায় উৎপাদিত অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকা উদ্ভাবিত কোভিশিল্ড ও ভারত বায়োটেক উৎপাদিত কোভ্যাক্সিন টিকা দেওয়া হচ্ছে এবং রাশিয়ার উদ্ভাবিত স্পুটনিক-ভি টিকা উৎপাদনের কাজও শুরু হয়েছে।

এ পর্যন্ত দেশটির ১৩০ কোটি নাগরিকের মাত্র তিন শতাংশকে পুরোপুরি টিকাদানের আওতায় আনা হয়েছে, যা সবচেয়ে সংক্রমণের শিকার ১০ দেশের মধ্যে সর্বনিম্ন।

আভ্যন্তরীণ চাহিদা মেটাতে মার্চ থেকে ভারত টিকা রপ্তানি বন্ধ রেখেছে। অথচ এর আগে নরেন্দ্র মোদী সরকারের পক্ষ থেকে উপযাচক হয়ে বিভিন্ন দেশে ছয় কোটি ৬০ লাখ ডোজ টিকা রপ্তানি এবং উপহার হিসেবে পাঠানো হয়েছে।

এখন পরিস্থিতির কারণে ভারত টিকা রপ্তানি বন্ধ রাখায় সংকটে পড়েছে প্রতিবেশি বাংলাদেশ, নেপাল, শ্রীলঙ্কা এবং আফ্রিকার অনেক দেশ।

তবে টিকা রপ্তানি বন্ধ রেখেও নিজেদের চাহিদা মেটাতে পারছে না ভারত। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বাধ্য হয়ে বিভিন্ন রাজ্য সরকার, এমনকি মুম্বাইয়ের মতো বড় শহর জরুরিভাবে ফাইজার, মডার্না, জনসন অ্যান্ড জনসনের করোনাভাইরাসের টিকা সংগ্রহের জন্য আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বান করেছে।

ভারত অক্টোবরের আগে বড় আকারে টিকা রপ্তানি শুরু করতে পারছে না। এমন পরিস্থিতিতে সেরাম ইনস্টিটিটের ওপর নির্ভরশীল বাংলাদেশ ও নেপালের মতো দেশগুলো টিকা পেতে কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু করেছে।

ভারতের আরেক প্রতিবেশি পাকিস্তান তার ঘনিষ্ঠ মিত্র চীনের কাছ থেকে টিকা কেনার পাশাপাশি উপহারও পেয়েছে। এর বাইরে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও টিকা প্রাপ্তি নিশ্চিতের বৈশ্বিক জোট গ্যাভির কাছ থেকেও এক কোটি ৮০ লাখ ডোজের বেশি টিকা সংগ্রহ করতে পেরেছে। ফলে বুধবার থেকে সেদেশে ১৯ বছর বা তার বেশি বয়সীদের জন্য টিকাদান কর্মসূচি চালু করা হয়েছে।