মারাত্মক শঙ্কায় খালেদা জিয়া

বৃহস্পতিবার, জানুয়ারি ৬, ২০২২

মারাত্মক জীবন শঙ্কায় খালেদা জিয়া। বন্ধ করা যাচ্ছে না রক্তক্ষরণ। ইনজেকশন ও ওষুধের চেষ্টাও ব্যর্থ হচ্ছে। বারবার কমে যাচ্ছে হিমোগ্লোবিন। কমে গেছে খাবারের রুচি। ভেঙে গেছে শারীরিক গঠনও। এছাড়া ইনসুলিন দিয়েও ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে আনা যাচ্ছে না। এমন পরিস্থিতে দলটি থেকে আশঙ্কা প্রকাশ করা হচ্ছে। যেকোনো সময় খালেদা জিয়ার দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

সমপ্রতি দেশব্যাপী খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য সমাবেশের পর আবারো কর্মসূচির ডাক দেয়া হয়েছে। মুক্তির দাবি নিয়ে আগামী ১২ জানুয়ারি থেকে দেশের ৪০ জেলায় কর্মসূচির তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। এসব অনুষ্ঠানে থাকবেন বিএনপি মহাসচিব, স্থায়ী কমিটির সদস্য, ভাইস চেয়ারম্যান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা, যুগ্ম মহাসচিব ও জেলার একজন টিম প্রধান।

বিএনপি নেতারা বলছেন, খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য মানুষ রাস্তায় বেরিয়ে পড়ছে। কেউ আর ১৪৪ ধারাও মানছে না। খালেদা জিয়ার কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে সরকারের প্রত্যেককেই হত্যা মামলার আসামি করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দেয়া হচ্ছে।

জানা গেছে, বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি ও সুচিকিৎসার জন্য বিদেশ পাঠানোর দাবিতে জেলা পর্যায়ে দ্বিতীয় ধাপে সমাবেশের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে দলটি। দেয়া হয়েছে অতিথির তালিকা। ১২ জানুয়ারি রাজশাহী জেলা মহনগরীর বাইরে সমাবেশ করতে হবে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও মিজানুর রহমান মিনুকে, কুমিল্লা উত্তর ও দক্ষিণ জেলা মহনগরীর বাইরে সমাবেশে থাকবেন ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন ও মনিরুল হক চৌধুরী, রংপুর জেলা মহনগরীতে মির্জা আব্বাস ও হাবিব-উন নবী খান সোহেল, বরিশাল দক্ষিণ জেলা মহনগরীর বাইরে গয়েশ্বর চন্দ্র রায় ও অ্যাড. মজিবুর রহমান সরোয়ার, খুলনা জেলা মহনগরীর বাইরে নজরুল ইসলাম খান ও মশিউর রহমান, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা মহনগরীর বাইরে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও জয়নাল আবেদীন ফারুক, সিলেট জেলা মহনগরীর বাইরে ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু ও খন্দকার আব্দুল মোক্তাদির।

এ সমাবেশে বিভাগীয় সাংগঠনিক ও সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক টিমের সদস্য হিসেবে সমাবেশের সমন্বয় করবে বলে জানান দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

তিনি জানান, সংশ্লিষ্ট জেলার জাতীয় নির্বাহী কমিটির নেতারা সমাবেশকে সফল করতে জেলা নেতাদের সার্বিক সহযোগিতা করবেন। প্রতিটি টিমে যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, কৃষক দল, ছাত্রদলের শীর্ষ নেতৃত্বের একজন প্রতিনিধি যুক্ত থাকবেন।

১৫ জানুয়ারির সমাবেশে নীলফামারীতে অতিথি থাকবেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও হেলালুজ্জামান তালুকদার লালু, ফেনীতে ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন ও আব্দুল আউয়াল মিন্টু, নওগাঁতে গয়েশ্বর চন্দ্র রায় ও মিজানুর রহমান মিনু, কুষ্টিয়ায় নজরুল ইসলাম খান ও ব্যরিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন, বি.বাড়িয়ায় আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও আবুল খায়ের ভূঁইয়া, বরগুনায় মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ ও অ্যাড. মজিবুর রহমান সরোয়ার, শেরপুরে শামছুজ্জামান দুদু ও হারুণ-অর রশিদ, বাগেরহাট অ্যাড. রুহুল কবির রিজভী ও মশিউর রহমান।

১৭ জানুয়ারি রাঙ্গামাটিতে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও আবদুস সালাম, নেত্রকোনায় নজরুল ইসলাম খান ও অ্যাড. ফজলুর রহমান, চাঁপাইনবাবগঞ্জে ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু ও হারুণ-অর রশিদ, রাজবাড়ীতে মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ ও মাহবুব উদ্দিন খোকন, নড়াইলে নিতাই রায় চৌধুরী ও মশিউর রহমান, পিরোজপুরে অ্যাড. জয়নুল আবেদীন ও মজিবুর রহমান সরোয়ার, চুয়াডাঙ্গায় শামছুজ্জামান দুদু ও হাবিব-উন নবী খান সোহেল। কুড়িগ্রামে অ্যাড. রুহুল কবির রিজভী ও ব্যরিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন।

২৪ জানুয়ারি ময়মনসিংহে ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু ও অ্যাড. ফজলুর রহমান, ঝালকাঠিতে ব্যরিস্টার শাহজাহান ওমর, বীর উত্তম ও অ্যাড. মজিবুর রহমান সরোয়ার, মাগুরাতে অ্যাড. নিতাই রায় চৌধুরী ও ব্যরিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন, মাদারিপুরে মীর মোহাম্মাদ নাসির উদ্দিন ও আবুল খায়ের ভূঁইয়া, বান্দরবানে মো. শাহজাহান ও জয়নাল আবেদীন, মৌলভীবাজারে আবদুুল আউয়াল মিন্টু ও হাবিব-উন নবী খান সোহেল, পঞ্চগড়ে আমান উল্লাহ আমান ও হেলালুজ্জামান তালুকদার লালু।

২২ জানুয়ারি নারায়ণগঞ্জে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও অ্যাড. ফজলুর রহমান, চাঁদপুরে ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন ও আব্দুস সালাম, সাতক্ষীরায় মির্জা আব্বাস ও মশিউর রহমান, ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা মহনগরীর বাইরে বাবু গয়েশ্বর চন্দ্র রায় ও হাবিব-উন নবী খান সোহেল, নাটোরে নজরুল ইসলাম খান ও মিজানুর রহমান মিনু, বরিশাল উত্তর জেলা মহনগরীর বাইরে বেগম সেলিমা রহমান, অ্যাড. জয়নুল আবেদীন, অ্যাড. মজিবুর রহমান সরোয়ার, চট্টগ্রাম উত্তর জেলা মহনগরীর বাইরে আব্দুল্লাহ আল নোমান ও জয়নাল আবেদীন ফারুক, সৈয়দপুরে শওকত মাহমুদ ও হারুণ-অর রশিদ, শরিয়তপুরে আমান উল্লাহ আমান ও ব্যরিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন। এ ছাড়া ৮ জানুয়ারি ব্রাহ্মণবাড়িয়া সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে।

বসুন্ধরার এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন খালেদা জিয়ার সর্বশেষ অবস্থা তুলে ধরে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘আমাদের যে চিকিৎসকরা আছেন, তারা অত্যন্ত আন্তরিকভাবে চিকিৎসা দিয়ে যাচ্ছেন, তারা তাদের সর্বশক্তি দিয়ে চেষ্টা করছেন দেশনেত্রীকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য। গত পরশুও তার রক্তক্ষরণ হয়েছে। আমি গতকাল ডাক্তারদের সাথে কথা বলেছি, তারা বলেছেন, আমাদের যে চিকিৎসার সুবিধা আছে, যে কারিগরি সোপোর্ট আছে সেই ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে আমরা এখন যা করছি তা অত্যন্ত সাময়িক। যেকোনো সময়েই দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জীবনের আশঙ্কা মারাত্মক হয়ে দেখা দিতে পারে।’

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, ‘বর্তমান সময় সংকটময় ও সমস্যাদীর্ণ গণতন্ত্রের সময়। কিন্তু মানুষ আর বসে থাকছে না। ১৪৪ ধারা ভেঙে বেরিয়ে আসছে মানুষ। বিএনপি যেখানেই সমাবেশ করছে, সেখানেই মানুষের ঢল নামছে। দুঃশাসনের বিরুদ্ধে জেগে উঠছে মানুষ।’

গত ১৩ নভেম্বর থেকে খালেদা জিয়া লিভার সিরোসিস রোগে আক্রান্ত হয়ে এভারকেয়ার হাসপাতালের সিসিইউতে চিকিৎসাধীন। হাসপাতালের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক অধ্যাপক সাহাবুদ্দিন তালুকদারের নেতৃত্বে ১০ সদস্যের মেডিকেল বোর্ড তার চিকিৎসায় নিয়োজিত রয়েছেন।