বাংলাদেশ, ২১শে জানুয়ারি, ২০২১ ইং। সর্বশেষ আপডেট: ১ দিন আগে
সর্বশেষ
  ||> সাংবাদিক ফরিদুল মোস্তফার স্থায়ী জামিন নয় অব্যাহতি চাই: বিএমএসএফ  ||> 'বঙ্গবন্ধু একমাত্র নেতা যিনি স্বাধীনতার চিন্তা করেছেন আবার এনেও দিয়েছেন'  ||> লালমোহনে মা ছেলে ২ জনকে পিটিয়ে গুরুতর আহত  ||> পটুয়াখালীতে বিএমএসএফ'র নতুন কমিটি গঠন  ||> বিভিন্ন আয়োজনে ইয়ুথ অ্যাকশন সোসাইটি-ইয়াসের ১ম প্রতিষ্ঠাবাষির্কী পালিত হয়  ||> বরগুনায় সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটির সম্পাদকের বাড়িতে ককটেল বিস্ফোরন  ||> নলছিটিতে নৌকার প্রার্থীর পক্ষে ছাত্রলীগের গণসংযোগ  ||> সামাজিক ও মানবিক কাজে বিশেষ অবদান রাখায় ধ্রুবতারা ফাউন্ডেশন ঝালকাঠি শাখাকে সম্মাননা স্মারক প্রদান  ||> নলছিটি পৌরসভা নির্বাচন প্রার্থীতা ফিরে পেলো সিমা  ||> ঝালকাঠিতে আইনজীবী সমিতির নির্বাচন আ’লীগ প্যানেল বিনাপ্রতিদ্বন্দিতায় বিজয়ের দ্বারপ্রান্তে  ||> ঝালকাঠিতে ইয়াবা ও ফেনসিডিলসহ আটক ১  ||> বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রীর সহধর্মিণীর মৃত্যুতে আমির হোসেন আমুর শোক  ||> গৃহহীন রহিমাকে পূর্নবাসনে পাশে দাড়ালেন ঝালকাঠির যুবলীগ নেতা ছবির হোসেন  ||> গৃহহীন রহিমাকে পূর্নবাসনে পাশে দাড়ালেন ঝালকাঠির মানবতাবাদী যুবক ছবির হোসেন  ||> ঝালকাঠি জেলা আওয়ামী লীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটির পরিচিতি সভা!  ||> রাজাপুরে ডাকাতি ছেড়ে সুস্থ জীবনে ফিরতে চাচ্ছেন আবু তালুকদার  ||> ঝালকাঠির রাজাপুরে এমপি'র ওয়ার্ডে জরাজীর্ণ ঘরে মানবেতর জীবন-যাপন করছে এক পরিবার  ||> ঝালকাঠির রাজাপুরে এমপি'র ওয়ার্ডে জরাজীর্ণ ঘরে মানবেতর জীবন-যাপন করছে এক পরিবার  ||> ইয়ুথ অ্যাকশন সোসাইটি-ইয়াসের ১ম প্রতিষ্ঠাবাষির্কী উপলক্ষে নারীদের মাঝে সবজি ও বীজ বিতরণ  ||>

Dabanol 24


শহীদ ডা. মিলন এক সংগ্রামী চেতনার নাম – মানিক লাল ঘোষ

নভেম্বর ২৭, ২০২০ ৩:১০ অপরাহ্ণ

স্মরণ-২৭ নভেম্বর–
যারা রাজনীতি নিয়ে ভাবেন, রাষ্ট্রকে নিয়ে চিন্তা করেন, গণতন্ত্র ও গণমানুষের চাওয়া-পাওয়া যাদের চিন্তা-চেতনাকে পরিচালিত করে সেসব গণতন্ত্রমনাদের কাছে আজকের দিনটি একটি স্মরণীয় দিন। আজ ২৭ নভেম্বর, শহীদ ডা. মিলন দিবস। ১৯৯০ সালে আজকের এই দিনে তৎকালীন সামরিক স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের চূড়ান্ত পর্বে সামরিকজান্তার পেটোয়া বাহিনীর গুলিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রের সন্নিকটে ডা. মিলন শহীদ হন। ডা.মিলনের শাহাদাতের কয়েকদিনের মধ্যেই গণআন্দোলন ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানে রূপ নেয় এবং স্বৈরাচার এরশাদের পতন ঘটে। নিশ্চিত হয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার পথ।

ডা. মিলন, পুরো নাম শামসুল আলম খান মিলন। ডা. মিলন নামেই তিনি আজ গণতন্ত্রের অতন্দ্র প্রহরী হয়ে সবার মাঝে বেঁচে আছেন। ডা. মিলন একজন সাহসী প্রগতিশীল রাজনীতিক ছিলেন। সমাজ পরিবর্তনের মাধ্যমে দেশে একটি প্রগতিশীল আধুনিক অসাম্প্রদায়িক রাষ্ট্র ব্যবস্থা গঠন করাই ছিল তাঁর স্বপ্ন। এ স্বপ্নকে লালন করতে গিয়ে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের সংগ্রামে অকাতরে জীবন বিলিয়ে দিলেন তিনি।

ডা. মিলন বাংলাদেশের পেশাজীবী আন্দোলনের একজন দক্ষ সংগঠক ছিলেন। নিজের চিকিৎসা পেশার সেবা ও মানবকল্যাণে নিবেদিত থাকার পাশাপাশি পেশার দক্ষতা, গুরুত্ব ও পেশাজীবীদের দাবি আদায়ে সবসময়ই ছিলেন আন্দোলন-সংগ্রামে অগ্রণী ভূমিকায়। মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে এ দেশের চিকিৎসকদের একমাত্র জাতীয় সংগঠন বাংলাদেশ মেডিক্যাল এসোসিয়েশনকে এবং পেশাজীবীদের সংগঠন (প্রকৃচি) আন্দোলনকে ডা. মিলন তাঁর জীবনের বিনিময়ে দেশবাসীর সামনে গৌরবান্বিত করে গিয়েছেন ।
গণবিরোধী স্বাস্থ্যনীতি, চিকিৎসকদের ২৩ দফা বাস্তবায়নের আন্দোলন করতে গিয়ে এক পর্যায়ে দেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলনে জীবনকে উৎসর্গ করতে হলো ডা. মিলনকে। ডা. মিলন কেন স্বৈরাচার সরকারের টার্গেট হলেন? পেশাজীবীদের দেশ ও রাষ্ট্রের উন্নয়নে নিয়ামক ভূমিকা পালনেই সপক্ষে তিনি সক্রিয় ছিলেন এটাই তাঁর মূল অপরাধ।

ডা. মিলন বিশ্বাস করতেন পেশাজীবী আন্দোলন দেশের সামগ্রিক পরিবর্তনে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তা না হলে রাজনৈতিক আন্দোলন পরিপূর্ণ হয় না। পেশাজীবীরা যেহেতু রাষ্ট্রের নীতিনির্ধারক, অবকাঠামো গঠন এবং জনসেবায় যুক্ত থাকেন, সেহেতু তাদের দেশ ও রাষ্ট্রের রাজনৈতিক উন্নয়নে অন্তর্নিহিত নিয়ামক ভূমিকা অপরিহার্য। ডা. মিলনের এ চিন্তা চেতনাকে দমানোর জন্যই হয়তো তিনি স্বৈরাচারের টার্গেট ছিলেন। যেমনি এ দেশের বুদ্ধিজীবীদের ’৭১-এ পাক হানাদার বাহিনী জাতিকে মেধাশূন্য করার জন্য নির্মমভাবে হত্যা করেছিল।

একজন মেধাবী ছাত্র, পেশাগত সততা, দক্ষতা, সাংগঠনিক কর্মতৎপরতায় ডা. মিলন ছিলেন অপ্রতিদ্বন্দ্বী। ডা. মিলন তৎকালীন বিএমএ’র নির্বাচিত যুগ্ম সম্পাদক, ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ শিক্ষক সমিতির কোষাধ্যক্ষ এবং ঢাকা কলেজের বায়োকেমিস্ট্রি বিভাগের প্রভাষক ছিলেন। তিনি পেশাজীবী ও রাজনৈতিক নেতাদের প্রিয়জন ও প্রিয়মুখ ছিলেন।

আজ পেশাজীবী ও রাজনৈতিক অঙ্গনের প্রিয়মুখ গণতন্ত্রের আত্মনিবেদিত সৈনিক ডা. মিলনের শাহাদাত বার্ষিকী। অথচ কী বিচিত্র এ দেশ যার রক্তের বিনিময়ে একটি স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন গণঅভ্যুত্থানে রূপ নিল, দেশের এতো বড় পরিবর্তন হলো, মৃত্যুর ৩০ বছরেও ডা. মিলনের হত্যাকারীদের কোনো বিচার হলো না।

ডা.মিলন গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে জীবন দান করেছেন। সেই গণতন্ত্র রক্ষার সংগ্রাম এখনও চলছে। গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের নামে একটি কুচক্রীমহল আবারও দেশকে অস্থিতিশীল করার নানামুখী ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। ভাস্কর্য অপসারণের নামে নতু্ন করে স্বাধীনতাবিরোধী চক্র সাম্প্রদায়িকতার বিষবাষ্প ছড়ানোর চেষ্টা করছে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে সকল অপশক্তিকে মোকাবেলা করে জনকল্যাণমুখী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠাই হোক ডা. মিলন দিবসের অঙ্গীকার।

মালিক লাল ঘোষ: সাংবাদিক, কলামিস্ট ও বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির কার্যনির্বাহী সদস্য।

পাঠকের মতামত:

[wpdevart_facebook_comment facebook_app_id="322584541559673" curent_url="" order_type="social" title_text="" title_text_color="#000000" title_text_font_size="22" title_text_font_famely="monospace" title_text_position="left" width="100%" bg_color="#d4d4d4" animation_effect="random" count_of_comments="3" ]