বাংলাদেশ, ১০ই ডিসেম্বর, ২০১৯ ইং। সর্বশেষ আপডেট: ১ ঘন্টার আগে
সর্বশেষ
  ||> জয় বাংলাকে জাতীয় শ্লোগান হিসেবে ব্যবহার করতে হবে: হাইকোর্ট  ||> ঝালকাঠীর ঠিকাদার মেকার আলম 'র বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি।  ||> ঝালকাঠীর ঠিকাদার মেকার আলম 'র বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি।  ||> ঝালকাঠিতে জাটকা ইলিশসহ যাত্রীবাহী বাস আটক, চালক ও হেলপারকে দণ্ড  ||> ঝালকাঠিতে শ্রেষ্ঠ ‘জয়িতা’ শারমিন মৌসুমি কেকা  ||> আলোকিত ঝালকাঠি’র বিশেষ মুদ্রিত সংখ্যার মোড়ক উন্মোচন করলেন আমির হোসেন আমু  ||> ঝালকাঠি সদর উপজেলা আওয়ামীলীগের ত্রিবার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত:সভাপতি আঃ রশিদ সম্পাদক হাফিজ আল মাহমুদ  ||> ঝালকাঠি জেলার প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির শ্রেষ্ঠ সভাপতি এইচ এম মাসুম বিল্লাহ  ||> কুরআনকে মিথ্যা প্রমাণ করতে গিয়ে নিজেই ইসলাম গ্রহণ করলেন কানাডার অধ্যাপক মিলার!  ||> বরিশাল মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি জাহাঙ্গীর, সম্পাদক সাদিক  ||> পোনাবালিয়া ইউনিয়ন আ’লীগের সভাপতি মজিবুর রহমান ও সম্পাদক হাকিম গাজী  ||> নলছিটিতে ইউ আর সি ইন্সট্রাকটরের বদলীর প্রতিবাদে মানববন্ধন ও স্মারকলিপি পেশ  ||> ঝালকাঠিতে ‘ধিক্কার দিবস’ পালিত  ||> আ’লীগ-বিএনপি সংঘর্ষে রণক্ষেত্র সিরাজগঞ্জ, পুলিশসহ আহত ৪০  ||> বরিশালে ট্রিপল মার্ডারের ঘটনায় মামলা  ||> ছাত্রলীগ থেকে বাদ পড়ছেন অন্তত ৪০ নেতা  ||> ধুঁকে ধুঁকে মৃত্যুর প্রহর গুনছে তালতলীর শিশু সানাউল টাকার অভাবে চিকিৎসা করাতে পারছে না  ||> ঝালকাঠি ও নলছিটি হানাদার মুক্ত দিবস আজ  ||> বিজয় দিবস উদযাপনের লক্ষ্যে ঝালকাঠি নাগরিক ফোরামের প্রস্তুতি সভা  ||> বানারীপাড়ায় ৩ জনের লাশ উদ্ধার

Dabanol 24


ঝালকাঠির রাজাপুরে অন্যের জমি দখল করে আজব বিদ্যালয় শিক্ষার্থী না থাকলেও এমপিও ভুক্ত স্কুলে শিক্ষক-কর্মচারী ৮

নভেম্বর ১৭, ২০১৯ ৭:০২ অপরাহ্ণ

ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলার মঠবাড়ি ইউনিয়নের পশ্চিম বাদুরতলা নি¤œ মাধ্যমিক বিদ্যালয় নামে এমপিও ভূক্ত এক আজব স্কুলের সন্ধান মিলেছে। যেখানে কাগজ কলমে ৮জন শিক্ষক ও কর্মচারি থাকলেও প্রতিষ্ঠার পর থেকে কোন পাঠদান হতে দেখেনি এলাকাবাসী। প্রতিমাসে বেতন-ভাতা বাবদ সরকারী তহবিল থেকে প্রায় দেড়লাখ টাকা উত্তোলন করলেও বিদ্যালয়টি এসে তারা কোনদিন পাঠদান করেনি।

স্কুলে পাঠদান কার্যক্রম না থাকলেও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে ম্যানেজ করে বছরের পর বছর চলছে বেতন-ভাতা উত্তোলন করে নিজেদের মধ্যে ভাগ বাটোয়ারা করে খাচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। আর আশ্চর্য জনক হলে সত্যি যে এ বিদ্যালয়টিযে শুধূ কাগজ-কলমে পরিচালিত হচ্ছে তাই নয় বরং নামকাওয়াস্তে যেটুকু অবকাঠামো রয়েছে তাও অন্যের জমি দখল করে তৈরি করা হয়েছে বলেও গুরুত্বর অভিযোগ রয়েছে।

স্থানীয়রা জানায়, ১৯৮৬ সালে নিজ বাড়ির আঙ্গিনায় বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা করেন আবু বকর নামে স্থানীয় এক ব্যক্তি। এরপর ১৯৯৫ সালে বিদ্যালয়টি এমপিও ভুক্ত হয়। স্থানীয়রা বিদ্যালয়টিকে ‘আবুর স্কুল’ নামেই চেনেন। আবু বকর বর্তমানে ওই বিদ্যালয়ে একজন সহকারি শিক্ষক। তার মেয়ে মুনমুন ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি, স্ত্রী নার্গিস বেগম অফিস সহকারি ও স্যালিকা জাহানারা বেগম দপ্তারী।

প্রতিষ্ঠার ৩৩ বছর পেরিয়ে গেলেও কোনদিন এই বিদ্যালয়ে পাঠদান করানো হয়নি। তবে কাগজে কলমে ভুয়া নাম দিয়ে ছাত্র ছাত্রী দেখানো হয়। আর কর্মকর্তারা পরিদর্শনে আসলে, বছরে এক অথবা দুই দিন বিদ্যালয়ে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের উপ¯ি’তি দেখা যায়। এ ছাড়া সারা বছরই বিদ্যালয়টি তালাবদ্ধ থাকে।

সরেজমিনে গিয়ে শনিবার (১৬ নভেম্বর) বেলা ১১টায় বিদ্যালয়টির অফিস ও শ্রেণিকক্ষে তালা ঝুলতে দেখা যায়। জাতীয় পতাকাটি অফিস কক্ষের বারান্দায় হেলানো অবস্থয় ছিলো। শ্রেণিকক্ষ গুলোতে ধুলাময় চেয়ার-টেবিল ও কিছু বেঞ্চ থাকলেও তা অনেকদিনে ব্যবহার করা হয়নি। স্থানীয় বাবলু হাওলাদার জানান, ‘আমার জন্মের পর থেকেই বিদ্যালয়টি দেখছি। তবে কোনদিন এখানে পাঠদান হতে দেখিনি।

এ অনিয়মের বিষয়ে বিভিন্ন সময়ে স্থানীয় মানুষ প্রতিবাদ করেছিলো। কিন্তু প্রতিবাদ করা প্রত্যেকেই আবু ও তার ছেলেদের হামলা শিকার হয়েছেন। তাদের জড়ানো হয়েছে একাধিক মিথ্যা মামলায়। তাই এখন কেউ এ বিষয়ে কথা বলতে চাননা অনেকেই।’

বাবলুর সাথে কথা বলতে বলতেই বিদ্যালয়ের পেছনে থাকা বাড়ির ভেতর থেকে খালি পায়ে এলোমেলো অবস্থয় এসে হাজির হন আবু বকরের স্ত্রী অফিস সহকারি নার্গিস বেগম। এরপরেই আসেন বিদ্যালয়ে উপস্থিত হওয়া একমাত্র শিক্ষক অরুণা মৈত্র। তিনি কৃষি শিক্ষা পড়ান। বিদ্যালয়ের অন্য শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘শিক্ষার্থীরা কেউ আসেনি।

আর অন্য শিক্ষকরা রাজাপুরে আছেন।’ স্কুলটি নিয়ে সর্বমহলে প্রশ্ন কিভাবে এ অবস্থয় স্কুলটি এখনও এমপিও থাকে ?
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক আখতারুজ্জামান বা”চু বলেন, ‘বিদ্যালয়টি থেকে অন্যত্র চলে যাওয়ার চেষ্টা করছি। স্থানীয় মানুষের সাথে বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতার দূরত্বের কারণেই শিক্ষার্থী পাওয়া যায়না।’

এ বিষয়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এমডি আবুল বাসার তালুকদার বলেন, ‘বিদ্যালয়টি আমি পরিদর্শন করেছি। চিঠি দিয়ে যাওয়ার পরেও মাত্র চার-পাঁচজন শিক্ষার্থী পেয়েছি।’ এ অনিয়মের বিরুদ্ধে কি ব্যবস্থা নিয়েছেন এমন প্রশ্নে জবাবে তিনি বলেন, ‘ ওদের (শিক্ষক-কর্মচারি) পেটে লাথি মেরে কি লাভ, তবে ওদের বলেছি, আগামি জানুয়ারি থেকে তিন শ্রেণিতে যদি কমপক্ষে ৭৫জন শিক্ষার্থী না থাকে, তাহলে সরকারি সুজোগ-সুবিধা বাতিলের সুপারিশ করবো।’

এ বিষয়ে ইউএনও মো. সোহাগ হাওলাদার বলেন, ‘প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ থাকায় উপজেলা ভূমি কর্মকর্তা ইমরান শাহরিয়ারকে প্রধান করে একটি তদন্ত কমিটি করা হয়েছিলো। সেই কমিটি অনিয়মের সত্যতা পেয়ে বিদ্যালয়ের এমপিও বাতিলের সুপারিশ করে। এ ছাড়া বিদ্যালয়ের জমির বিষয়ে সম্প্রতি একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি যা তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

Facebook Comments

পাঠকের মতামত: