বাংলাদেশ, ২৩শে অক্টোবর, ২০১৯ ইং। সর্বশেষ আপডেট: ৩ ঘন্টা আগে
সর্বশেষ
  ||> ফেনীর মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত হত্যা মামলার রায় কাল  ||> রাজাপুর নারিকেলবাড়ীয়ায় মিনি ফুটবল টুর্নামেন্ট এর শুভ উদ্বোধন  ||> ক্যাসিনোকাণ্ডের পর হুইপ-এমপিসহ বিদেশ যেতে মানা যাদের  ||> বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক ঐক্য পরিষদের ডাকে, ঢাকা যাচ্ছেন রাজাপুর উপজেলার ঐক্য পরিষদের সদস্যরা।  ||> রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার দাবানল ২৪.কম এর নির্বাহী সম্পাদক কাজী ইরান  ||> সাংবা‌দিক‌দে ঐক্যবদ্ধতার বিকল্প নেই- ছাত‌কে বিএমএসএফ নেতৃবৃন্দ  ||> রক্ষক যখন ভক্ষক তখন মানুষের শেষ আশ্রয় স্হল কোথায়??  ||> ঝালকাঠিতে জাকের পার্টি ছাত্রফ্রন্টের কাউন্সিল অনুষ্ঠিত  ||> ঝালকাঠিতে বঙ্গবন্ধু প্রজন্মলীগ'র কমিটি গঠন। সভাপতি: সাজ্জাদ সম্পাদক: তালাল  ||> ঝালকাঠিতে জেলা পুলিশের আয়োজনে নিরাপদ সড়ক দিবস পালিত  ||> ঝালকাঠিতে জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস পালিত  ||> ঝালকাঠিতে জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস পালিত  ||> ফেসবুকে উস্কানিমূলক বক্তব্য, খুলনায় সাংবাদিক গ্রেপ্তার  ||> সিলেট যাচ্ছেন ‘খালেদা জিয়া’  ||> ঝালকাঠি জেলার নবাগত অতিরিক্ত পুলিশ সুপারকে শুভেচ্ছা!  ||> ঝালকাঠিতে সুমন তালুকদারের ব্যতিক্রমী উদ্দোগ  ||> ময়মনসিংহের সেই লাগেজে মিলল মাথাবিহীন মরদেহ  ||> ভোলায় নিহতদের দাফন সম্পন্ন  ||>   ||> হাটহাজারীতে মন্দির রক্ষা করলো মাদ্রাসা ছাত্ররা

Dabanol 24


বার কাউন্সিল পরীক্ষা প্রস্তুতি ২০১৯ (পর্ব-১৮)

সেপ্টেম্বর ২২, ২০১৯ ১২:২৪ অপরাহ্ণ

মোকদ্দমা স্থানান্তর এবং কার্য হস্তান্তর-

দেওয়ানী মামলা স্থানান্তর বা প্রত্যাহার-
আদালত পক্ষগণের অনুমতি না নিয়েও ন্যায় বিচারের স্বার্থে মোকদ্দমা স্থানান্তর করতে পারেন। জেলা জজ আদালত দেওয়ানী আদালত আইন, ১৮৭৭ এর ১১ এবং ২১ ধারা অনুযায়ী তার প্রশাসনিক কর্তৃত্বাধীন যে কোন আদালত হতে যথাক্রমে মূল মোকদ্দমা এবং আপীল মোকদ্দমা প্রত্যাহার করে নিজে বা তার প্রশাসনিক কর্তৃত্বাধীন অন্যকোন উপযুক্ত আদালতে স্থানান্তর করতে পারেন।

আবার দেওয়ানী কার্যবিধির ধারা ২৪ অনুযায়ী, হাইকোর্ট বিভাগ এবং জেলা জজ আদালত যে কোন পর্যায়ে তাদের অধীনস্থ কোন দেওয়ানী আদালতের অধীন কোন মোকদ্দমা, আপীল বা অন্যান্য বিচারিক কার্যক্রম প্রত্যাহার করতে পারেন। এই প্রত্যাহারকৃত কোন মোকদ্দমা, আপীল বা অন্যান্য বিচারিক কার্যক্রম তারা নিজে বিচার করতে পারেন বা অধীনস্থ অন্য কোন এখতিয়ার সম্পন্ন আদালতে প্রেরণ করতে পারেন।

আবেদন করার সময়- ধারা- ২২

দেওয়ানী কার্যবিধির ২১ ধারা অনুযায়ী যখন কোন মামলা দুই বা ততোধিক আদালতের যে কোন একটিতে দায়ের করা যায় এবং এর মধ্যে যে কোন একটি আদালতে মোকদ্দমা দায়ের করা হয়েছে। সেক্ষেত্রে মোকদ্দমার যে কোন পক্ষ উপযুক্ত কারণ প্রদর্শন করে মোকদ্দমা স্থানান্তরের আবেদন করতে পারে। আদালত আবেদন পাওয়ার পর মোকদ্দমার অপর পক্ষকে শুনানির সুযোগ প্রদান করবে এবং এখতিয়ার সম্পন্ন কোন আদালতে মোকদ্দমাটি স্থানান্তর করবে না স্থির করবেন।

বিঃদ্রঃ মোকদ্দমা স্থানান্তরের আবেদন অবশ্যই আদালত কর্তৃক বিচার্য বিষয় নির্ধারনের পূর্বে হতে হবে এবং বিবাদীকে মোকদ্দমা স্থানান্তরের বিষয়ে নোটিশ প্রদান করতে হবে।

যে আদালতে আবেদন করতে হয়-

দেওয়ানী কার্যবিধির ধার ২৩ ও ২৪ ধারা একসাথে পড়লে দেখা যায় দুই ধরনের আদালতে মোকদ্দমা স্থানান্তরের জন্য আবেদন করা যায় যথা;
ক. জেলা জজের আদালতে;
খ. হাইকোর্ট বিভাগে।

১. মোকদ্দমা দুই বা ততোধিক আদালতে দায়েরযোগ্য এবং আদালতসমূহ একই আপীল আদালতের এখতিয়ারধীন হলে, মোকদ্দমা স্থানান্তরের আবেদন আপীল আদালতে করতে হবে।

২. অন্যদিকে, অনুরুপ আদালত ভিন্ন ভিন্ন আপীল আদালতের এখতিয়ারাধীন হলে হাইকোর্ট বিভাগে মোকদ্দমা স্থানান্তরের মামলা করতে হবে।

৩. অন্যদিকে যখন এক জেলা জজের নিয়ন্ত্রন অধীন কোন আদালতের মোকদ্দমা অন্য জেলার নিয়ন্ত্রনাধীন আদালতে স্থানান্তরের জন্য হাইকোর্ট বিভাগে আবেদন করতে হবে।

বিঃদ্রঃ দেওয়ানী আদালতের আপীল এখতিয়ার মামলার মূল্যমানের সাথে জড়িত। সুতরাং যুগ্ম জেলা জজ আদালতের কোন মোকদ্দমা স্থানান্তর করার আবেদন দুই আদালতে করা যাবে। যদি মোকদ্দমার মূল্যমান ৫,০০,০০০ (পাঁচ) লক্ষ টাকা পর্যন্ত হয়, সেক্ষেত্রে আবেদন দায়ের করতে হবে জেলা জজ আদালতে এবং মোকদ্দমার মূল্যমান ৫,০০,০০০ (পাঁচ) লক্ষ টাকার বেশি হয় তবে হাইকোর্ট বিভাগে মোকদ্দমা স্থানান্তরের আবেদন করতে হবে।
মোকদ্দমা প্রত্যাহার- আদেশ-২৩

মোকদ্দমা প্রত্যাহার-

কোন মোকদ্দমা দায়ের করা হলে, পরবর্তীতে তা প্রত্যাহারের অধিকার কেবল বাদী পক্ষের থাকবে। রীতিসিদ্ধ ত্রুটির কারণে মোকদ্দমা ব্যর্থ হওয়ার সম্ভাবনা থাকলে বা বাদীকে মোকদ্দমার বিষয়বস্তু বা তার অংশের জন্য নতুন করে মোকদ্দমা দায়ের করার অনুমতি দেবার যথেষ্ট কারণ থাকলে, আদালত বাদীর আবেদনের প্রেক্ষিতে মোকদ্দমা প্রত্যাহারের আদেশ দিতে পারে [বিধি-১]। তবে ডিক্রি বা আদেশ জারীর কোন কার্যক্রমের ক্ষেত্রে মোকদ্দমা প্রত্যাহারের কোন বিধান প্রযোজ্য হবে না [বিধি-৪]।

আদালতের অনুমতি ব্যতিত মোকদ্দমা প্রত্যাহারের ফলাফল-

যেক্ষেত্রে বাদী আদালতের অনুমতি ব্যতিত কোন মোকদ্দমা বা তার কোন অংশের দাবী প্রত্যাহার বা পরিত্যাগ করলে, আদালতের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী মোকদ্দমার খরচের জন্য দায়ী হবে এবং উক্ত মোকদ্দমা বা তার অংশের দাবীর জন্য পুনারায় নতুন মোকদ্দমা দায়ের করার কোন অধিকার পাবে না [বিধি-১(৩)]।

কতিপয় বাদীর ক্ষেত্রে মোকদ্দমা প্রত্যাহার করার বিধান-

যে মোকদ্দমায় বাদী একাধিক ব্যক্তি, সে মোকদ্দমার ক্ষেত্রে সকল বাদীর অনুমতি না নিয়ে এক বা একাধিক বাদী মোকদ্দমা প্রত্যাহারের আবেদন করলে, আদালত মোকদ্দমা প্রত্যাহারের অনুমতি দিবেন না [বিধি-১(৪)]।

তামাদি আইনের উপর প্রভাব- বিধি-২

আদালতের অনুমতি নিয়ে কোন মোকদ্দমা প্রত্যাহার করে নতুন মোকদ্দমা দায়েরের ক্ষেত্রে, প্রথম মোকদ্দমাটি দায়ের না হলে যেভাবে তামাদির মেয়াদ গণনা করা হত, সেই একইভাবে নতুন মোকদ্দমার তামাদির মেয়াদ গণনা হবে [বিধি-২]।

মোকদ্দমার আপোষ-

আপোষ মিমাংসার মাধ্যমে ডিক্রিকে সোলে ডিক্রি বলা হয় এবং সোলে ডিক্রির বিরুদ্ধে আপীল বা রিভিশন করা যাবে না।

ব্যাখ্যাঃ সোলে ডিক্রি- আদালতে মোকদ্দমা দায়ের করার পর মোকদ্দমার তর্কিত বিষয়ে উভয়পক্ষের মধ্যে আপোষ করতে ইচ্ছুক হলে- কিভাবে আপোষ-মিমাংসা হবে, সে সম্পর্কে উভয় পক্ষ কর্তৃক স্বাক্ষরিত আবেদন আদালতে দাখিল করতে হবে। উক্ত দাখিলকৃত আবেদনকে ‘সোলে নামা’ বলা হয় এবং উক্ত ‘সোলে নামা’র ভিত্তিতে আদালত যে ডিক্রি প্রদান করেন তাকে সোলে ডিক্রি বলা হয়।

Facebook Comments

পাঠকের মতামত: