বাংলাদেশ, ১লা জুন, ২০২০ ইং। সর্বশেষ আপডেট: ৪ ঘন্টা আগে
সর্বশেষ
  ||> ঝালকাঠিতে করোনা ভাইরাস সংক্রমনের ঝুঁকি রোধে জনসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষে পথ প্রচার  ||> ঝালকাঠি সদর উপজেলা পরিষদের পক্ষ থেকে লঞ্চ যাত্রীদের শরীরের তাপমাত্রা পরীক্ষা  ||> জেলায় জেলায় রক্তযোদ্ধাদের সংগঠন প্রতিক্ষনের ভিন্নধর্মী প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালন  ||>   ||> ঝালকাঠিতে নবজাতকের লাশ উদ্ধার  ||> রাজাপুরে গ্রামে এসে ঢাবি শিক্ষার্থীর মাস্তানিতে এলাকাবাসী আতংকিত  ||> PBRB-এর ১২ তম বর্ষে পদার্পণ উপলক্ষে পটুয়াখালী জেলার বৃক্ষ রোপন কর্মসূচি  ||> করোনা তহবিলে ঈদ সালামির টাকা দান করলেন জুই  ||> মাস্ক না পরে বের হলেই ছয় মাসের কারাদণ্ড বা লাখ টাকা জরিমানা  ||>   ||> হাতীবান্ধায় পরিক্ষায় ফেল করায় আত্মাহত্যা ১ ছাত্রীর  ||> খুলনা রেঞ্জের ১০ টি জেলার সাথে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে মাসিক অপরাধ সভা অনুষ্ঠিত।  ||>   ||> অনলাইন পত্রিকাগুলো করোনাকালে দায়িত্বশীল ভুমিকা রাখছে  ||> ঝালকাঠিতে ছাগলে গাছ খাওয়াকে কেন্দ্র করে বৃদ্ধকে লাঞ্ছিত, যুবককে গণধোলাই  ||>   ||> ঝালকাঠিতে উপজেলা আওয়ামী লীগ অফিস কেয়ারটেকার সন্ত্রাসি হামলার শিকার  ||> রেকর্ড ৪০ জনের মৃত্যু করোনায়, নতুন শনাক্ত ২৫৪৫  ||> কাল থেকে এসএসসির ফল পুনঃনিরীক্ষার আবেদন শুরু  ||> এসএসসি-সমমানে পাসের হার ৮২ দশমিক ৮৭ শতাংশ

Dabanol 24


বার কাউন্সিল পরীক্ষা প্রস্তুতি ২০১৯ (পর্ব-১২) আরজি- আদেশ-৭

সেপ্টেম্বর ১৫, ২০১৯ ১১:১৪ পূর্বাহ্ণ

দেওয়ানী কার্যবিধির ২৬ ধারা অনুযায়ী, প্রত্যেক মোকদ্দমা আরজি উপস্থাপনের মাধ্যমে অথবা নির্ধারিত অন্য কোন পদ্ধতিতে দায়ের করতে হবে। অর্থ্যাৎ দেওয়ানী মোকদ্দমা ২ ভাবে দায়ের করা যায়:-
১. আরজি দাখিলের মাধ্যমে;
২. নির্ধারিত অন্য কোন পদ্ধতিতে যেমন; বিবিধ মোকদ্দমা আবেদন দাখিলের মাধ্যমে দায়ের করতে হয়।

আরজি-

দেওয়ানী মোকদ্দমায় আরজি হল, বাদীর লিখিত দাবী এবং প্রতিকার প্রার্থনা সম্বলিত আবেদনপত্র যা আদালতে দাখিল করার মাধ্যমে মোকদ্দমার সূচনা হয়।

আরজির বিষয়বস্তু- আদেশ- ৭, বিধি- ১-৯, ১৪, ১৫

আরজিতে এমন কিছু বিষয় অর্ন্তভূক্ত থাকে যা সামগ্রিক বিষয় সম্পর্কে ধারণা দেয়। দেওয়ানী কার্যবিধির আদেশ- ৭, বিধি- ১ অনুযায়ী আরজিতে নিম্নে লিখিত বিষয়গুলি অর্ন্তভূক্ত থাকবে-
১. আদালতের নাম;
২. পক্ষগণের নাম, পরিচয় এবং বাসস্থান;
৩. পক্ষগণের নাবালকত্ব বা মানসিক বিকারগ্রস্ততার বিবরণ;
৪. মোকদ্দমার কারণ এবং সময়;
৫. আদালতের এখতিয়ার;
৬. দাবীকৃত প্রতিকার (যে প্রতিকার দাবী না করলেও আদালত মঞ্জুর থাকেন তা আরজিতে উল্লেখ না করলেও চলবে) [আদেশ-৭, বিধি-৭];
৭. দাবীর কোন অংশ পরিশোধ বা বর্জন হলে তার বিবরণ;
৮. মোকদ্দমার মূল্যমান সম্পকৃত বিবৃতি।

উপরে বর্ণিত বিষয় ছাড়াও নিম্নোক্ত বিষয় সমূহ প্রয়োজন অনুযায়ী অর্ন্তভূক্ত করতে হবে-
১. অর্থ আদায়ের মোকদ্দমার ক্ষেত্রে, আরজিতে টাকার পরিমাণ কিন্তু অমীমাংসীত অর্থের ক্ষেত্রে অনুমানিক পরিমাণ [আদেশ-৭, বিধি-২]।
২. স্থাবর সম্পত্তির মোকদ্দমার ক্ষেত্রে, সম্পত্তি সনাক্ত করার উপযুক্ত বিবরণ [আদেশ-৭, বিধি-৩]।
৩. প্রতিনিধি হিসাবে মোকদ্দমা দায়েরের ক্ষেত্রে, প্রতিনিধি হিসাবে মামলা করার অধিকার দেখাতে হবে [আদেশ-৭, বিধি-৪]।
৪. বিবাদের বিষয়বস্তুতে বিবাদীর হস্তক্ষেপের ক্ষেত্রে, বিবাদী যখন এবং যেভাবে হস্তক্ষেপ করেছে ও বিবাদী বাদীর দাবীর জবাব দিতে বাধ্য তা আরজিতে দেখাতে হবে [আদেশ-৭, বিধি-৫]।
৫. তামাদির মেয়াদান্তে মোকদ্দমা দায়েরর ক্ষেত্রে, যে কারণে তামাদির অব্যহতি দাবী করা হয় তা আরজিতে দাখিল করতে হবে [আদেশ-৭, বিধি-৬]।
৬. একাধিক নালিশের কারণ থাকলে, কারণ এবং দাবী পৃথক পৃথকভাবে উল্লেখ করতে হবে [আদেশ-৭, বিধি-৮]।
৭. আরজির সাথে দলিল দাখিল করলে, আরজির পিছনের দিকে দলিলের তালিকা সংযুক্ত করতে হবে [আদেশ-৭, বিধি-৯]।
৮. কোন দলিল নির্ভর প্রতিকার দাবীর ক্ষেত্রে, আরজির সাথে আইনজীবী কর্তৃক সত্যায়িত দলিলের ফটোকপি দাখিল করতে হবে [আদেশ-৭, বিধি-১৪]।
৯. দলিল বাদীর দখলে না থাকলে, যে ব্যক্তির দখলে কিংবা আয়ত্তে¡ উক্ত দলিল আছে তা আরজিতে উল্লেখ করতে হবে [আদেশ-৭, বিধি-১৫]।

বিঃদ্রঃ আদালতের এখতিয়ার এবং কোর্ট ফি নির্ধারণের ক্ষেত্রে আরজিতে মোকদ্দমার মূল্যমান দিতে হয়। মোকদ্দমার মূল্য মান নির্ধারণ করা হয় ‘কোর্ট ফি আইন, ১৮৭০’ এর তৃতীয় অধ্যায়ের বিধানাবলী অনুযায়ী।

আরজি ফেরত- আদেশ-৭, বিধি-১০

ভুল আদালতে মোকদ্দমা দায়ের করলে, সঠিক আদালতে মোকদ্দমার দায়ের করার জন্য আদালত আরজি ফেরত দিবেন। এটাকে আরজি ফেরত বলে। আদালত আরজি ফেরত দেবার সময় নিম্নে লিখিত বিষয়ে বিবৃতি লিপিবদ্ধ করবেন-
১. আদালতে আরজি দাখিলের তারিখ;
২. আদালত কর্তৃক আরজি ফেরতের তারিখ;
৩. আরজি দাখিলকারী পক্ষের নাম; এবং
৪. আরজি ফেরত দেবার কারণ।

বিঃদ্রঃ ভুল আদালতে মামলা দায়ের করার ফলে যে সময় ব্যয়িত হয়েছে তা মোকদ্দমার তামাদির মেয়াদ গণনার সময় অব্যহতি পাবে [তামাদি আইন, ১৯০৮ ধারা- ১৪]।

আরজি খারিজ/প্রত্যাখান- আদেশ-৭, বিধি-১১

আদেশ-৭ এর বিধি-১১ অনুযায়ী নিম্নোক্ত ৪ টি কারণে আদালত আরজি খারিজ/প্রত্যাখান আদেশ দিতে পারেন এবং বিচারিক আদালত কোন আরজি খারিজ/প্রত্যাখাত করলে আদেশ-৭ এর বিধি-১২ অনুযায়ী তার কারণ উল্লেখ করে একটি আদেশ লিপিবদ্ধ করবেন। যদি আরজিতে-
১. মোকদ্দমার কারণ উল্লেখ না থাকে;
২. দাবীকৃত প্রতিকারের মূল্য কম উল্লেখ করা হলে;
৩. প্রয়োজনের তুলনায় কম মূল্যমানের স্টাম্পে আরজি দাখিল করলে; এবং
৪. আইনানুসারে উক্ত মোকদ্দমা নিষিদ্ধ হলে। যেমন; মোকদ্দমা তামাদিতে বারিত হলে।

বিঃদ্রঃ মোকদ্দামার সঠিক মূল্যমান অথবা প্রয়োজনীয় স্ট্যাম্প দাখিলের জন্য আদালত কর্তৃক নির্ধারিত সময়সীমা ২১ (একুশ) দিনের বেশি হবে না।

আরজি খারিজ/প্রত্যাখানের বিরুদ্ধে প্রতিকার-

আদালত কোন আরজি খারিজ/প্রত্যাখান করলে বাদীর নিম্নোক্ত প্রতিকার থাকে-
১. পুনারায় একই বিষয়ে নতুন আরজি দাখিল করতে পারে [আদেশ-৭, বিধি-১৩];
২. আরজি খারিজ/প্রত্যাখান/নাকচ আদেশ ডিক্রি হওয়ার কারণে এর বিরুদ্ধে আপীল করা যাবে;
৩. আবার, যদি আপীল না করা হয় তবে ধারা-১১৪ এর অধীন রিভিউ করা যাবে।

পাঠকের মতামত:

[wpdevart_facebook_comment facebook_app_id="322584541559673" curent_url="" order_type="social" title_text="" title_text_color="#000000" title_text_font_size="22" title_text_font_famely="monospace" title_text_position="left" width="100%" bg_color="#d4d4d4" animation_effect="random" count_of_comments="3" ]