বাংলাদেশ, ১৫ই সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ইং। সর্বশেষ আপডেট: ১ ঘন্টার আগে
সর্বশেষ
  ||> টয়লেটে নবজাতকের মরদেহ, গ্রেফতার মা  ||> প্রাথমিকের শিক্ষক নিয়োগের ফল প্রকাশ  ||> টাইগারদের তোপে ব্যাটিং বিপর্যয়ে আফগানিস্তান  ||> নলছিটি গার্লস স্কুল এন্ড কলেজ'র ৪তলা নতুন ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন  ||> নলছিটিতে বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপ টুর্নামেন্টের পুরস্কার বিতরণ  ||> নলছিটিতে বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপ টুর্নামেন্টের পুরস্কার বিতরণ  ||> নলছিটিতে ইউপি সদস্যের হামলায় ভোটার হতে আসা যুবক হাসপাতালে  ||> বার কাউন্সিল পরীক্ষা প্রস্তুতি ২০১৯ (পর্ব-১২) আরজি- আদেশ-৭  ||> ভূমিহীনদের জমি দখল করছে প্রভাবশালীরা  ||> বরিশালের সন্তান জয় বললেন ছাত্রলীগই আমার আবেগ উচ্ছ্বাস নির্ভরতা  ||> সড়ক পথে যোগাযোগের স্বপ্ন পূরনের পথে সুগন্ধা নদীর উপর মিলন সেতু নির্মানের প্রস্তাব চুরান্ত  ||> ঝালকাঠি সরকারি কলেজের সহকারী অধ্যাপক বজলুর রশিদ-এর মালয়েশিয়া গমন  ||> কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সভাপতি হলেন বরিশালের সন্তান আল নাহিয়ান খান জয়  ||> আওয়ামী লীগের ২১তম জাতীয় সম্মেলন ডিসেম্বরে  ||> ছাত্রলীগের পদ হারালেন শোভন-রাব্বানী  ||> ঝালকাঠিতে বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত রোগীদের আর্থিক সহায়তা  ||> ঝালকাঠিতে ৪৮ তম গ্রীষ্মকালীন ক্রীড়া প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত  ||> পা চেপে ধরে কুকুরকে দিয়ে খাওয়ানো হলো ধর্ষকের পুরুষাঙ্গ  ||> ১০৬ রানে ভারতকে আটকে দিল বাংলাদেশের যুবারা  ||> প্রধানমন্ত্রী রাজশাহী যাচ্ছেন রোববার

Dabanol 24


বার কাউন্সিল পরীক্ষা প্রস্তুতি ২০১৯ (পর্ব-৫)

সেপ্টেম্বর ৫, ২০১৯ ১:৫৩ অপরাহ্ণ

দেওয়ানী আদালতসমূহের গঠন-

১৮৮৭ সালের দেওয়ানী আদালত আইন অনুযায়ী দেওয়ানী আদালতসমূহ গঠিত। আইনের ধারা- ৩ অনুযায়ী, দেওয়ানী আদালত ৫ ধরণের-
১. জেলা জজের আদালত;
২. অতিরিক্ত জেলা জজের আদালত;
৩. যুগ্ম জেলা জজের আদালত;
৪. সিনিয়র সহকারী জজের আদালত; এবং
৫. সহকারী জজের আদালত।

আদালতসমূহের এখতিয়ার-

দেওয়ানী আদালতসমূহের এখতিয়ার সঠিকভাবে বোঝার জন্য দেওয়ানী আদালত আইন, ১৮৮৭ এবং দেওয়ানী কার্যবিধি, ১৯০৮ একসাথে মিলিয়ে পড়তে হবে। দেওয়ানী আদালতের এখতিয়ারকে প্রধানত ৫ ভাগে ভাগ করা যায়-
১. বিষয়গত এখতিয়ার;
২. আদি এখতিয়ার;
৩. আঞ্চলিক এখতিয়ার;
৪. আর্থিক এখতিয়ার; এবং
৫. আপীল এখতিয়ার।

১. বিষয়গত এখতিয়ার- ধারা- ৯

দেওয়ানী আদালতের বিষয়গত এখতিয়ার সম্পর্কে দেওয়ানী কার্যবিধি, ১৯০৮ এর ধারা- ৯ অনুযায়ী, আইনদ্বারা বারিত না হলে, দেওয়ানী আদালত সকল প্রকার দেওয়ানী মামলার বিচার করতে পারবে। ধারাটির ব্যাখ্যা অনুযায়ী, যে সকল মোকদ্দামায় সম্পত্তি বা পদের অধিকার সম্পর্কিত বিষয় জড়িত তা দেওয়ানী মোকদ্দমা বলে গণ্য হবে।

২. আদি এখতিয়ার-

আদি এখতিয়ার হল মূল মোকদ্দমা বিচারের জন্য আমলে নেওয়ার ক্ষমতাকে বোঝায়। সকল দেওয়ানী আদালতের আদি এখতিয়ার নেই। সাধারণত ৩ ধরণের দেওয়ানী আদালতের আদি এখতিয়ার আছে তারা হল-
ক. যুগ্ম জেলা জজ আদালত;
খ. সিনিয়র সহকারী জজ আদালত; এবং
গ. সহকারী জজ আদালত।

বিঃদ্রঃ জেলা জজ এবং অতিরিক্ত জেলা জজের কোন আদি এখতিয়ার নেই। তবে, বিশেষ ক্ষেত্রে এবং বিশেষ কোন আইনের অধীন জেলা জজ আদি এখতিয়ার প্রয়োগ করতে পারেন। যেমন; কপিরাইট আইন, ট্রেড মার্ক আইন, অবিভাবক এবং প্রতিপাল্য আইন ইত্যাদি বিষয়ে জেলা জজ আদালতের আদি এখতিয়ার আছে।

আবার, দেওয়ানী আদালত আইনের ১১ ধারা অনুযায়ী, যদি জেলা জজের অধীন কোন যুগ্ম জজ মৃত্যু, অসুস্থতা অথবা অন্য কোন ভাবে তার কার্যসম্পাদনে ব্যর্থ হয়, তাহলে জেলা জজ নিজে কিংবা তার অধীন অন্য কোন যুগ্ম আদালতকে সে সকল কার্য পরিচালনার আদেশ দিতে পারে।

এছাড়া, দেওয়ানী কার্যবিধির ২৪ ধারা অনুযায়ী, জেলা জজ আদালতের ক্ষমতা বলে স্থানান্তরিত আদি এখতিয়ার বিশিষ্ট মোকদ্দমার বিচার করতে পারেন।

অন্যদিকে, দেওয়ানী আদালত আইনের ৮(২) ধারা অনুযায়ী, অতিরিক্তি জেলা জজ, জেলা জজ কর্তৃক নির্ধারিত সকল কাজ করবেন।

৩. আঞ্চলিক এখতিয়ার- ধারা- ১৬-২০ এবং দেওয়ানী আদালত আইনের ধারা- ১৩

দেওয়ানী আদালত আইনের ধারা- ১৩ অনুযায়ী, সরকার দেওয়ানী আদালতের আঞ্চলিক এখতিয়ার নির্ধারণ করে। যদি একই সীমানাতে একাধিক দেওয়ানী আদালত বিদ্যমান থাকে, তবে জেলা জজ, হাইকোর্টের সাধারণ বা বিশেষ আদেশ অনুসারে, তার প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রনাধীন আদালতের মোকদ্দমা আমলে নেবার ক্ষমতা নির্ধারণ করে দিবেন।

দেওয়ানী কার্যবিধির ১৬ ধারা অনুযায়ী, স্থাবর সম্পত্তির নিম্নোক্ত বিষয়ে যেখানে স্থাবর সম্পত্তিটি অবস্থিত সেখানে মামলা দায়ের করতে হবে-
ক. পুনরুদ্ধারের মামলা;
খ. বাটোয়ারা মামলা;
গ. বদ্ধক বা চার্জের ক্ষেত্রে দায় পরিশোধ, বিক্রয় এবং বন্ধক মুক্তির মোকদ্দমা;
ঘ. স্বত্ব বা অধিকার নির্ণয়ে কোন মামলা;
ঙ. অনিষ্টের জন্য ক্ষতিপুরণ; এবং
চ. আটক বা ক্রোককৃত অস্থাবর সম্পত্তির উদ্ধারের মামলা।

দেওয়ানী কার্যবিধির ১৭ ধারা অনুযায়ী, স্থাবর সম্পত্তিটি যখন দুই বা ততোধিক আদালতের এখতিয়ারের মধ্যে পড়ে, সেক্ষেত্রে যে কোন একটি আদালতে মোকদ্দমা করতে পারে।

১৮ ধারা অনুযায়ী, যেখানে আদালতের সীমানা অনিশ্চিত বা এটা দাবী করা হয়, সেক্ষেত্রে যে কোন একটি আদালতে মোকদ্দমা দায়ের করা যাবে।

অন্যদিকে ১৯ ধারা অনুযায়ী, স্থাবর সম্পত্তির কোন ক্ষতিসাধন করা হলে, নিম্নোক্ত যে কোন জায়গাতে মামলা করা যাবে-
ক. যেখানে সম্পত্তিটি অবস্থিত;
খ. যেখানে বাদী বসবাস করে;
গ. যেখানে বাদী ব্যবসা করে; এবং
ঘ. যেখানে বাদী কোন লাভজনক কাজ করে।

অন্যান্য ক্ষেত্রে কোন মামলার কারণ উদ্ভব হলে ধারা-২০ অনুযায়ী, বাদী যেখানে বসবাস করে বা যেখানে মামলার কারণ উৎপত্তি হয় সেখানে মোকদ্দমা দায়ের করতে হবে।

বিঃদ্রঃ প্রথম সম্ভাব্য সুযোগ এবং বিচার্য বিষয় নির্ধারণের সময় বা পূর্বে আদালতের এখতিয়ার সম্পর্কে প্রশ্ন উত্থাপন করতে হবে। ন্যায় বিচার ব্যহত না হয়ে পরবর্তী অর্থ্যাৎ আপীল বা রিভিশনে আদালতের এখতিয়ার নিয়ে আপত্তি করা হলে আদালত তা মঞ্জুর করবেন না (ধারা-২০)।

লেখক: এ্যাডভোকেট মোঃ আবুল কালাম আজাদ আইন উপদেষ্টা দাবানল২৪

Facebook Comments

পাঠকের মতামত: